২ ঘণ্টা আগে
সর্বশেষ আপডেট: ২ ঘণ্টা আগে
স্টার অনলাইন ডেস্ক
রিয়াদে গত ৫ অক্টোবর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে বৈঠকে অংশ নেন দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। ছবি: রয়টার্স
মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত তিন দেশ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা আজ সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আঞ্চলিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। পাকিস্তানের পক্ষে থাকবেন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধানও বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তিদের একজন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স সৌদি সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পায়নি।
ইরানের সঙ্গে তিন দেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ
পরিকল্পিত এই বৈঠকটি হতে যাচ্ছে ইরান ও মক্কা চুক্তির তিন সদস্য দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, যখন ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় সৌদি আরব ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে।
গত সপ্তাহে তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সফরে ইরানি কর্মকর্তারা তাকে জানান, তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে পাকিস্তান। দেশটির আগের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় জুনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে।
এদিকে, সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। রোববারও দেশটি নতুন করে এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
সৌদি আরবে সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
চলতি মাসের শুরুর দিকে মক্কা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীরা রিয়াদে জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা একমত হন।
ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ঘিরে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বৃহত্তর এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও চাপের মুখে পড়েছে।
গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রয়টার্সের হাতে আসা চুক্তির পাঠ অনুযায়ী, এর প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো একে অপরের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের প্রতি হুমকি দূর করতে ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে।
চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে গত সপ্তাহে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা এখনো চলছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান গত সপ্তাহে চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।
